বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন’র (ইউজিসি) তথ্য
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
* বিগত সরকারের পতনের পর ৪২ জন উপাচার্য (ভিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পদত্যাগ করেছেন।
* এখনো ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষাও ব্যাহত হচ্ছে।
* দেশে ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ এখনো শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিগত সরকারের পতনের পর ৪২ জন উপাচার্য (ভিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এখনো পদত্যাগ করেননি। তার মধ্যে এখনো ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ব্যাহত হচ্ছে ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষাও ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর একে একে ৪২ জন ভিসি পদত্যাগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, উপাচার্যের পদ শূন্য থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সরকার এখন পর্যন্ত ৩৩ জন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে। আর ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো উপাচার্য নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উপাচার্য নিয়োগে বেশ কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে গত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ও সমর্থনকারী কাউকে উপাচার্য পদে দেয়া হবে না। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একাডেমিক স্কলার হতে হবে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। কিন্তুু সব মানদণ্ড পূরণ করা শিক্ষক পেতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। সূত্র জানায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গত জুন থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে সর্বজনীন পেনশনে অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। আর ১ জুলাই থেকে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যান। তখন থেকে ক্লাস-পরীক্ষা পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এরপর কোটা সংস্কার ঘিরে আন্দোলন শুরু হলে গত ১৭ জুলাই থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর ১৮ আগস্ট থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রোভিসি ও ট্রেজারার না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি ক্লাসে ফিরতে পারেনি। ফলে কয়েক মাস বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেশনজট দীর্ঘ হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। সূত্র আরো জানায়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলেও তাঁরা এখনো গুছিয়ে উঠতে পারছেন না। কারণ শুরুতে তাঁদের প্রশাসনিক পদগুলো পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া তাঁরা সব শিক্ষককে খুশি করতে পারছেন না। কেউ কেউ তাঁদের বিপক্ষে চলে যাচ্ছেন। আবার ক্যাম্পাসে যাতে কোনো কাজে কোনো ধরনের বিতর্কের মধ্যে না পড়তে হয় সেদিকও বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হচ্ছে । এদিকে বর্তমানে উপাচার্য না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ওসব প্রতিষ্ঠানে এখনো ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়নি। ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনদের সভা থেকে সিনিয়র একজন শিক্ষককে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দিয়ে কোনোমতে কাজ চালানো হচ্ছে। তবে বিগত সরকার পতনের পর ৪২ জন উপাচার্য পদত্যাগ করলেও ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এখনো পদত্যাগ করেননি। তাঁরা হলেন- বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সিলেটের উপাচার্য ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. নাছিম আখতার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কিশোরগঞ্জের উপাচার্য জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আবদুল বাসেত, শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় খুলনার উপাচার্য ডা. মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে এম জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আবু নঈম শেখ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পিরোজপুরের উপাচার্য কাজী সাইফুদ্দীন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় নওগাঁর উপাচার্য মো. আবুল কালাম আজাদ এবং মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেহেরপুরের উপাচার্য মো. রবিউল আলম। মূলত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা পদত্যাগ করেননি। কারণ ওসব প্রতিষ্ঠানে মাত্র দু-চার বছর ধরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আর ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীও বেশি নয়। মূলত ওসব নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী খুব কম হওয়ায় উপাচার্যরা এখনো বহাল রয়েছেন। অন্যদিকে দেশের ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আরো ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আইন পাস হয়েছে। কিন্তুু সেগুলোতে এখনো ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়নি। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমও শুরু হয়নি সেগুলো হলো- বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নারায়ণগঞ্জ। সার্বিক বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়-১ অধিশাখা) নুরুন আক্তার জানান, বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ভিসি নয়, প্রোভিসি ও ট্রেজারার পদও শূন্য হয়ে যায়। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শূন্যপদ পূরণ করা হলেও এখনো কিছু বাকি আছে। সেগুলোর কাজ চলছে। মূলত একটি ফাইল প্রসেস করে তা বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে আসতে সময় লাগে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েরই ফাইল চলমান। আশা করা যায় নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাহত শিক্ষাকার্যক্রম
- আপলোড সময় : ০৯-১০-২০২৪ ১২:৪৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-১০-২০২৪ ১২:৪৯:৩৯ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ